
স্টাফ রিপোর্টারঃ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা সামসুন্নাহার বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে হাসপাতাল ছেড়ে ফিরে গিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১ টার দিকে তিনি বহিরাগত লোকজনসহ হাসপাতালে এসে যোগদান করার চেষ্টা করলে তাকে বাঁধা দেন বিক্ষোভকারীরা। প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে চলা বিক্ষোভ চলাকালে স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা সামসুন্নাহারের সাথে আসা বহিরাগতদের আক্রমণে পদায়ন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশ। কিন্তু তারপরেপ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আন্দোলনকারীদের দাবি নানান অনিয়মদূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সামসুন্নাহারের পদায়ন বাতিল করতে হবে।
সরেজমিনে মিঠাপুকুর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা সামসুন্নাহার বহিরাগত দলবলসহ হাসপাতালে এসেছেন। অপরদিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করেন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারীরাসহ সংশ্লিষ্টরা। এর আগে তার পদায়নের খবরে গত দুদিন ধরে ডাঃ সামসুন্নাহারের পদায়ন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মঙ্গলবার সবকিছু উপেক্ষা করে দলবলসহ সামসুন্নাহার হাসপাতালে আসলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। শুরুতেই ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডাঃ আব্দুল হালিম লাবলুকে সামসুন্নাহারের লোকজন আঘাত করলে মুহুর্তেই বিক্ষোভ জোরদার হয়। এসময় সামসুন্নাহারের লোকজন মারপিট করে কমপক্ষে ৬ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়। আহতরা হলেন, সিনিয়র স্টাফ নার্স কার্ফি আক্তার বানু, হাওয়া বেগম, মিডওয়াইফ নার্স কুমকুম বেগম, ইসরত জাহান বনি, সিএইচসিপি আশা তালুকদার প্রমূখ।
ডাঃ সামসুন্নাহারের পদায়ন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীরা জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব, বিশেষ সহকারী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক প্রশাসন, রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), রংপুর জেলা প্রশাসক, রংপুর সিভিল সার্জন ও মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা অবিলম্বে দূর্নীতিবাজ সামসুন্নাহারের পদায়ন বাতিল করে নতুন কমকর্তা প্রদানের দাবি জানান।
জানা গেছে, ডাঃ সামসুন্নাহার পূর্বের ৩ উপজেলার কর্মরত থাকা অবস্থায় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, সরকারি অর্থ লোপাট, স্বেচ্ছাচারিতা, কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ ও কর্ম পরিবেশ বিনষ্টকারী স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত। এ কারণে ডা: সামসুন্নাহারকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়ন করায় চিন্তিত এবং উদ্বিন্ন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টর।
সিনিয়র স্টাফ নার্স কার্ফি আক্তার বানু বলেন, পদায়নকৃত কমকর্তা সন্ত্রাসী নিয়ে এসে আমাদের উপর আক্রমণ করেছে। আমরা এই কর্মকর্তার পদায়ন বাতিল সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার মিঠাপুকুর যোগদান করতে আসলে আমাদের রক্তের উপর দিয়ে তাকে অফিসে যেতে হবে। একই কথা বলেন, আরও কয়েকজন প্রতিবাদকারী।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা সামসুন্নাহার বলেন, আমি সরকারি আদেশে যোগদান করতে এসেছি। কিন্তু এখানে দুইটি পক্ষ রয়েছে। একটি আমার পক্ষে আর একটি আমার বিপক্ষে। এ কারণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আপনার সাথে বহিরাগত লোকজন কেনো সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। পরে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এখন সবকিছু স্বাভাবিক আছে। আহতদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।
এম কন্ঠ/ এস