
অনলাইন ডেস্ক:
একসময় গ্রামে গ্রামে চোখে পড়তো গোলাঘর। সময়ের সাথে প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনচিত্র। ২৫ বছর আগেও যা ছিল সাধারণ জীবন যাপনের উপকরণ, এখন সেগুলো হারানো ঐতিহ্য। তেমনি এক ঐতিহ্য ধানের ‘গোলাঘর’।
আবহমান বাংলার সমৃদ্ধ গৃহস্থ পরিবারে ‘গোলাভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ ও গোয়াল ভরা গরু’। এই প্রবাদটি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। একটা সময় কৃষকের বাড়িতে ধানের গোলা ছিল। ধানের মৌসুমে কৃষকরা জমি থেকে ধান কেটে শুকিয়ে গোলাজাত করতেন। তবে এখন আর গ্রামাঞ্চলে গোলাঘর চোখে পড়ে না। যদিও দেখা মেলে তবে তা বিরল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে ধান সংরক্ষণের ধরণ।
কৃষকরা জানান, বাঁশ দিয়ে গোল আকৃতির ‘ধানের গোলা’ তৈরি করা হতো। যারা এই গোলা তৈরি করতেন তারা বাঁশ কারিগর বা বেতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বছরের নির্দিষ্ট সময় তারা গৃহস্থ বাড়িতে এসে গোলা তৈরি করে দিতেন। গোলার মাথায় টিন বা খড়ের তৈরি পিরামিড আকৃতির টাওয়ারের মতো থাকতো। অনেক বড় ও উঁচু সেই গোলা থেকে ধান বের করার জন্য নিচে দিকে বিশেষ দরজা ছিল।
তবে এখন আর আগের মতো গোলায় ধান রাখা হয় না। প্লাস্টিকের বস্তা বা গোডাউনে ধান সংরক্ষণ করা হয়। কৃষকরা অল্পদিনের জন্য নিজ বাড়িতেও ধান সংরক্ষণ করে পরে তা বিক্রি করেন। সেজন্যই এখন আর গোলার প্রয়োজন পড়ে না। তবে ধানের গোলা ছিল গৃহস্থ বাড়ির ঐতিহ্যের প্রতীক। কালের বিবর্তনে ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে পাকা গুদাম ঘরের যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে ধানের গোলাঘর।
এম কন্ঠ/এস