
স্টাফ রিপোর্টার:
ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রংপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জনজীবন। শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পুরো অঞ্চল। ফলে চরম বেকায়দায় পড়েছে খেটেখাওয়া ও সাধারণ মানুষ।
এ অবস্থায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহল। ইতোমধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও মোঃ পারভেজ, বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায়-ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। সারাদিন অফিসের কাজে ব্যস্ত সময় পার করে, সন্ধ্যা হলেই উষ্ণতা নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন অসহায় শীতার্ত মানুষের কাছে। মানবিক এই কার্যক্রমে ইউএনওর সাথে থাকছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি মোঃ আশিক জামান।

____শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ পারভেজ। সাথে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশিক জামান। ছবি: সংগ্রহীত
১ জানুয়ারি নতুন বছরের প্রথম দিনেও উষ্ণতা নিয়ে ছুটে যান অসহায় শীতার্ত মানুষের কাছে। উপজেলার রানীপুকুরের এরশাদ মোড় ও ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরেরহাট এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ পারভেজ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশিক জামান।

____শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ পারভেজ। সাথে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশিক জামান। ছবি: সংগ্রহীত
এদিকে, শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা। সকালে কাজে বের হতে না পারায় অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। ইটভাটা, কৃষিক্ষেত, নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন খোলা জায়গার কাজ কার্যত বন্ধ। ফুটপাতে বসবাসকারী ছিন্নমূল মানুষ, বয়স্ক ও শিশুরা শীতের তীব্রতায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
শীতজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
চিকিৎসকরা জানান, সর্দি-কাশি,নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের হিমেল বাতাস ও দীর্ঘ সময় কুয়াশা থাকার কারণে শীতের অনুভূতি অনেক বেশি। বিশেষ করে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি থাকে যে, কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া আগামী মাসেও অব্যাহত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা আরো কিছুটা কমতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে শীতের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে।
সার্বিকভাবে, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের জনজীবন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ ও আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, এই পরিস্থিতি জানুয়ারি মাসে থেকে বাড়তে পারে। তিনি বলেন,‘ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব এখনই কাটার সম্ভাবনা নেই। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এমকন্ঠ/সুজন
Leave a Reply