
অনলাইন ডেস্ক:
রংপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুস সাহেদ মন্টু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর চারটার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে-মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মঙ্গলবার বাদ আছর রংপুর ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজের জানাজা শেষে তাকে বড় নূরপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
এর আগে, বেলা দুইটার দিকে তার মরদেহে রংপুর প্রেসক্লাব, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিজেইউ, রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজ, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন-টিসিএ রংপুরসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তার মৃত্যুতে সাংবাদিক সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল থেকে শোক জানানো হয়েছে।
সর্বজন শ্রদ্ধেয় আব্দুস সাহেদ মন্টুর জন্ম ১৯৪৪ সালে ২৪ ডিসেম্বর। রংপুর শহরের জি.এল রায় রোড মন্হনা জন্মস্থান হলেও তার শেকড় বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জে। তার বাবা আব্দুস সামাদ ও মা শহিদা খাতুন।
পড়াশুনার সাথে সাথে স্কুল জীবন থেকেই সাংবাদিকতা তাকে আকৃষ্ট করে। মরহুম সাংবাদিক আব্দুল মজিদ তাকে সাংবাদিকতার পথে আসতে অনুপ্রেরণা যোগান। ম্যাট্রিকুলেশনের গণ্ডি পেরুতে না পেরোতেই ১৯৬৪ সালে দৈনিক আজাদী দিয়ে আব্দুস সাহেদ মন্টুর সাংবাদিকতার পথচলা শুরু। এরপর যোগ দেন দৈনিক পয়গামে। এখানে কিছুদিন থাকার পর সুযোগ পান পিপিআই-তে।
১৯৭৬ সালে ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ টাইমস-এর রংপুর প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ উনিশ বছর পর ১৯৯৫ সালে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করে তিনি দি ইন্ডিপেন্ডেট পত্রিকার রংপুর প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৮৬ সালে রংপুর প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে যুক্ত হন। ২০১৪ পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন খবর, মাটি ও মানুষের কথা, রাজনৈতিক সংবাদ, আন্দোলন-সংগ্রামের কথা আন্তর্জাতিক এই সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরেন। একই সময়ে তিনি বিবিসি বাংলায় রংপুর প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৮৬ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত কাজ করেন।
গুণী ও অভিজ্ঞ এই সাংবাদিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যুক্ত থেকে রংপুর অঞ্চলসহ দেশের কথা তুলে ছড়িয়েছেন বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে রয়টার্স এবং বিবিসি বাংলায় মফস্বল থেকে তার সংবাদ ও সাংবাদিকতা এ অঞ্চলের মুখ উজ্জ্বল করেছে।
দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত থাকা আব্দুস সাহেদ মন্টু ছিলেন রংপুর প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম একজন। তিনি ছিলেন রংপুরের সবচেয়ে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক। তিনি রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের আহ্বায়ক হিসেবে এই অঞ্চলের সাংবাদিকদের একজন পরম অভিভাবক হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। গুণী সাংবাদিক ও সংগঠকের পাশাপাশি তিনি একজন সমাজসেবকও। রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির তিনি আজীবন সদস্য।
এমকন্ঠ/এস