
অনলাইন ডেস্ক:
বসন্ত মানেই কি কেবল শিমুল-পলাশের রক্তিম উৎসব? নাগরিক কোলাহল থেকে গ্রাম-বাংলায় দৃষ্টি ফেরালে এখন দেখা মিলবে এক ভিন্নতর শুভ্রতার। গ্রাম-বাংলার মেঠোপথে দেখা মিলবে অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা বুনো ফুল ‘ভাট’ বা ‘বনজুঁই’।
স্থানীয়দের কাছে যা ‘বনজুঁই’ নামেই সমধিক পরিচিত। পরিত্যক্ত মাঠ, পুরোনো ভিটে কিংবা মেঠোপথের ধারে থোঁকায় থোঁকায় ফুটে থাকা এই শুভ্র ফুল জানান দিচ্ছে— প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে সেজেছে এক স্নিগ্ধ সাজে। দিনের আলোয় ডানা মেলা এই রূপ, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে দেয় আরও তীব্র ও মায়াবী সুবাস।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বাড়ি থেকে বের হলেই মেঠোপথ। দুধারে ফুটে আছে ভাট ফুল। এই শুভ্রতা আর গন্ধে সত্যিই হৃদয় জুড়িয়ে যায়। এক স্কুল শিক্ষককের মতে, ‘তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়’— কবির সেই আহ্বান যেন সার্থক করে তুলেছে এই অবহেলিত ফুলগুলো।
তবে এই সৌন্দর্যের মাঝেও প্রবীণদের কণ্ঠে শোনা গেছে আক্ষেপ। বয়োবৃদ্ধ এক কৃষক স্মৃতিকাতর হয়ে বলেন, গ্রামে এক সময় স্বর্গ ছিল। আধুনিক নগরায়ণের দাপটে সেই স্বর্গ আমরা হারাতে বসেছি। একই সুর শোনা গেল প্রকৃতিপ্রেমিক শামীম মিয়ার কণ্ঠেও। তিনি বলেন, আধুনিক সভ্যতার দাপটে গ্রামীণ সৌন্দর্যের আজ মৃত্যু ঘটছে।
ভাট ফুল কেবল চোখের প্রশান্তিই নয়, জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও এর ভূমিকা অনন্য। এর মধু সংগ্রহে মৌমাছিদের অবিরাম আনাগোনা প্রকৃতিতে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।
এছাড়া এই বুনো লতা-গুল্মের রয়েছে অসামান্য ঔষধিগুণ। চর্মরোগ থেকে শুরু করে বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড়ে এর পাতা ও মূল অব্যর্থ দাওয়াই হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে জানা গেছে।
অনাদর আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই সাদা ফুলগুলো মনে করিয়ে দেয়, বাংলার প্রকৃতি আজও তার সবটুকু উজাড় করে সাজিয়ে রেখেছে নিজেকে। নাগরিক ব্যস্ততা ভুলে মেঠোপথের এ শুভ্রতা অবলোকন করতে গিয়ে পথিকের ক্লান্তি যেন নিমিষেই মিলিয়ে যায়।
এমকন্ঠ/এস