
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বহন বাড়ছেই। আইন এবং নিয়মনীতি না মানায় বাড়ছে দূর্ঘটনা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ট্রাক্টরে করে আবাদি জমি থেকে মাটি পরিবহনের সংখ্যাটাই বেশি। ফলে জনগণের চলাচলের রাস্তা ধুলোবালিতে ভরপুর হচ্ছে। অনেক সড়কে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এসব ট্রাক্টরের দাপটে অসময়েই গ্রামীণ সড়ক ভেঙ্গে গর্তের সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সরকারের কাধেঁ সংস্কার ব্যয় বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মাটিবালু পরিবহনে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি মিঠাপুকুর উপজেলার রতিয়া মডার্ন বাজার এলাকায় দেখা গেছে, অবাধেই চলছে ট্রাক্টর দিয়ে মাটিবহন। একদিকে পুকুর খনন হচ্ছে আর অপরদিকে ট্রাক্টর দিয়েেসেই মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। এ যেন পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে। নিয়ম মেনেই কি পুকুর খনন হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে, উপজেলা মৎস্য দপ্তরেও মেলেনি উপজেলায় মোট পুকুরের সংখ্যা।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর শুস্ক মৌসুম এলেই পুকুর খননের হিড়িক পড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আইন থাকলেই প্রয়োগ না থাকায় পুকুরখনন সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভেকু (মাটিকাটা মেশিন) দিয়ে অবাধেই পুকুরখনন করছে। জমির মালিকদের সাথে বিভিন্ন কৌশলে চুক্তি করে মাটি তুলে বিক্রি করছেন পুকুরখনন সিন্ডিকেট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পদ্মপুকুর এলাকার কুটকুটিয়া গ্রামে ৬০ বিঘার তিন ফসলি জমিতে দিনরাত পুকুর খনন করছে ফারাজুল ও জোবায়ের নামের দুই ব্যক্তি। খননকরা মাটি যাচ্ছে পাশের ইটভাটায়। গত প্রায় দুইমাস ধরে চলছে এই কর্মযঙ্গ।
মির্জাপুর ইউনিয়নের ওয়াহেদ মিয়া, তিনি একাই তিনটি পুকুর খননের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। তিনি কৃষিজমির মালিককে ম্যানেজ করে পুকুর খনন করছেন। সেই মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়।
রতিয়া এলাকার বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে মাটি পরিবহন করায় জাহাঙ্গীরাবাদ থেকে রতিয়া সড়কটি চলালচলের অনুপযোগী করে তুলেছেন। ওয়াহেদ উপজেলার পুরান বৈরাতী ও রতিয়া মডার্ন বাজার এলাকায় অবাধে মাটি পরিবহন করছে। এছাড়াও একই এলাকার, মজনু, জনি ও সাইফুল মাটি চক্রের অন্যতম সদস্য।তারা সকলেই ইমাদপুর আদারহাট ও মির্জাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাটি বিক্রি করে আসছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, দিনেরবেলা ট্রাক্টরে করে মাটিবহন করায় রাস্তায় যানজট বাড়ার পাশাপাশি দূর্ঘটনা ঘটছে। চরম আতংঙ্ক সৃষ্টি করে ট্রাক্টরগুলো রাস্তা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এছাড়াও চালকরা বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। জনস্বার্থে এসব ট্রাক্টরের দৌরাত্ম ঠেকাতে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এমকন্ঠ/রাব্বি