স্টাফ রিপোর্টার:
কালো ধান চাষ করে তরুণ কৃষক রকিবুল ইসলাম সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। ভিয়েতনাম জাতের ব্ল্যাক রাইস বা কালো রঙের ধান চাষ করে নজর কেড়েছেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের তরুণ কৃষক রকিবুল ইসলাম। ধান দেখতে অনেকেই ভিড় করছেন। আবার অনেক কৃষক আগ্রহী হয়ে আগাম বীজের জন্য যোগাযোগও করছেন।
বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর ইউনিয়নের দিঘড়ী গ্রামের আমিনুল হকের ছেলে রকিবুল ইসলাম। স্থানীয় সেতাবগঞ্জ বাজারের একটি কসমেটিকসের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি কৃষিকাজের সঙ্গেও সমপৃক্ত তরুণ কৃষক রকিবুল। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ রকিবুল ইসলাম ৩৩ শতক জমি ইজারা নিয়ে ব্ল্যাক রাইস চাষ শুরু করেছেন।
তরুণ কৃষক রকিবুল ইসলাম জানান, অনলাইনে ৪৫০ টাকা দিয়ে এক কেজি ব্ল্যাক রাইস চাল কিনে ভাত খাওয়ার পরই তার মনে আগ্রহ তৈরি হয় এই ধান চাষ করার। তারপর অনলাইনের মাধ্যমে ১১’শ ৫০ টাকা দিয়ে ২ কেজি বীজ সংগ্রহ করেন। বীজতলায় তা বপনের মাধ্যমে শুরু করেন নতুন জাতের ধান উৎপাদনের প্রস্তুতি।
তিনি জানান, প্রথমে নিজের পৈত্রিক জমিতেই এই ধান চাষ করতে চাইলেও তার বাবা আমিনুল হক রাজি হননি। নতুন জাতের ধান হওয়ায় ছেলে ইন্টারনেট দেখে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে—এমনটাই মনে করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাবার কাছ থেকে জমি না পেয়ে রকিবুল ২৪ হাজার টাকায় ৩৩ শতক জমি ইজারা নেন। গত ৯ জুলাই সেখানে ব্ল্যাক রাইসের চারা রোপণ করেন।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রকিবুল জানান, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ধান কাটা যাবে। ৩৩ শতক জমিতে ২০ থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়ার আমা তার। প্রতিকেজি ধানের মূল্য ৪০০ টাকা ধরা হলে প্রতি মণ ধানের মূল্য প্রায় ১৬ হাজার টাকা। সে হিসাবে ২০ মণ ধান বিক্রি করতে পারলে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, প্রথমবার ব্ল্যাক রাইস চাষ করে লাখপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ফলন ও বাজার ভালো হলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই ধান চাষ করতে চান এই কৃষি উদ্যোক্তা। তিনি জানান, সাধারণ ধানের মতোই ব্ল্যাক রাইসের চাষ করা যায়। আলাদা করে অতিরিক্ত সার, পানি কিংবা বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। আধুনিক অন্যান্য ধানের মতোই এর পরিচর্যা করতে হচ্ছে তাকে।
বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা জানান, ব্ল্যাক রাইস বা কালো চাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্থোসায়ানিন, ফাইবার ও আয়রন সমৃদ্ধ। পুষ্টিগুণের আধিক্যের কারণে বিশ্বজুড়ে এটি ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত। এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক। এই ধানের চাল উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া গেলে কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
এমকন্ঠ/এস