মিঠাপুকুরের কন্ঠ প্রতিবেদক:
রংপুরের মিঠাপুকুরে শখের বসে একটি খেজুরের চারা রোপণ করেন নুর নবী মিয়া ও তার স্ত্রী নাজনীন নাহার নাজ দম্পত্তি। সেই শখ থেকে সাহস। শুরু হয় বাণিজ্যিকভাবে খেজুর চাষ। উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের কাশিনাথপুরে গড়ে ওঠা তাদের বাগানে রয়েছে আজওয়া, মরিয়ম, সুক্কারি, মেডজুল ও আম্বারার মতো দামি ও বিশ্বখ্যাত জাতের খেজুর। উন্নত জাতের চারা বিক্রি করে আয় করছেন এই দম্পতি।
নুর নবী মিয়া জানান, বাগানে উৎপাদিত উন্নত জাতের প্রতিটি চারা ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফল বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও বিক্রি তাদের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।
নাজনীন নাহার নাজ জানান, শুরুতে তাদের উদ্যোগ নিয়ে অনেকে তাদের ‘পাগল’ উপাধিও দিয়েছিল। এখন তাদের সাফল্য দেখে অনেকে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং খেজুর চাষের বিষয়ে পরামর্শ চাইছেন।
খেজুরবাগান দেখতে আশরাফ আলী বলেন, ফেসবুকে মরুভূমির খেজুর ফলার গল্প শুনতাম। কিন্তু এখানে এসে এত সুন্দর আজওয়া-মরিয়ম খেজুর ঝুলতে দেখব, ভাবতেই পারিনি। গাছে লাল-হলুদ খেজুরের থোকা দেখে সত্যি চোখ জুড়িয়ে যায়।
তবে দর্শনার্থীদের সমাগমের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও ভাবনার কারণ হয়ে উঠেছে। বাগানে ঝুলন্ত দামি খেজুর দেখতে আসার সুযোগে কিছু খেজুর চুরির ঘটনা ঘটছে। এ কারণে বাগান পাহারা ও নিরাপত্তায় বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে তাদের।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, এখানকার মাটি ও আবহাওয়া বিদেশি খেজুর চাষের জন্য কতটা উপযোগী, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। উপজেলা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে যারা এ ধরনের উদ্যোগ নিতে চান, তাদেরকেও সার্বিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এমকন্ঠ/এস