অনলাইন ডেস্ক:
চট্টগ্রাম নগরে একই পরিবারের ৭ ও ১১ বছরের দুই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুল বাতেন নামের এক মুয়াজ্জিনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে) রাত ১০টা দিকে তাকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, অভিযুক্ত বাতেনকে আমরা আটক করেছি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানাব।
বাতেন খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় একটি মসজিদে মক্তব পরিচালনা করতেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় সেই মক্তবের সব শিক্ষার্থীকে ছুটি দিলেও দুই শিক্ষার্থীকে ছুটি দেননি বাতেন।
শিশুরা ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে তাদের বোন মক্তবের মসজিদে আসেন। তিনি এসে দেখেন, তার বোনদের তালা মেরে রেখেছেন বাতেন। এসময় শিশুরা বোনকে জানায়, বাতেন তাদের জন্য নাস্তা আনতে গিয়েছেন। নাস্তা নিয়ে আসার পর তালা খুলে দিলে বড় বোন ছোট দুই বোনকে নিয়ে বাসায় ফেরেন।
পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় বাচ্চারা ফিরতে ফের দেরি হওয়ায় এবার বোনের পরিবর্তে মা যান বাচ্চাদের নিয়ে আসতে। শুক্রবারও ঘটে বৃহস্পতিবারের মতো ঘটনা। তখন মা মসজিদ কমিটিকে ডেকে ঘটনা জানান। কমিটির লোকজন বাতেনের বেতন পরিশোধ করে বিদায় দিতে চাইলে মা বাধা দিয়ে পুলিশে তুলে দেন বাতেনকে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত বাতেন ৭ ও ১১ বছরের ওই ২ শিশুকে ‘ব্যাড টাচ’ করতেন নিয়মিত।
ওই দুই বাচ্চা মসজিদ কমিটিকে আলাদা আলাদাভাবে ঘটনার বর্ণনা দেয়। কিন্তু বর্ণনা আলাদা হলেও একই ঘটনা হওয়ায় মসজিদ কমিটি বাতেনকে থানায় হস্তান্তর করে। বাতেন প্রায় ১ যুগ ওই মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছিল বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, শিশুধর্ষণের অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে বাকলিয়া থানা গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার আদালতে মনির দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শুক্রবার দুপুরে ডবলমুরিং থানায় এহেসান, বিকেলে বায়েজিদ থানা এলাকা থেকে হাসান নামে আরো এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঢাকায় শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে চট্টগ্রামে একের পর এক এমন ঘটনা ভয়, আতঙ্কের পাশাপাশি ক্ষোভ জন্ম দিয়েছে।
এমকন্ঠ/এস