ধর্ষণের শাস্তি কোন দেশে কতটা কঠোর?

অনলাইন ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশ কঠোর আইন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে। কোথাও আজীবন কারাদণ্ড, আবার কোথাও রয়েছে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোরতম শাস্তির বিধান। এসব আইন মূলত সমাজকে নিরাপদ রাখা এবং অপরাধ দমনকে কঠোর করার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।

ধর্ষণকে মানবতার বিরুদ্ধে অন্যতম ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর শিকার ব্যক্তিরা শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে গভীর ক্ষতির মুখে পড়েন, যা অনেক সময় সারাজীবন স্থায়ী হয়।

নিচে বিভিন্ন দেশের ধর্ষণবিরোধী শাস্তির বিধান তুলে ধরা হলো—

সৌদি আরব
ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে জনসম্মুখে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড। রায়ের সাত দিনের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সাজা কার্যকর করা হয়।

পাকিস্তান
ধর্ষণ, বিশেষ করে শিশু ও গণধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। গুরুতর অপরাধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়।

চীন
ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ধর্ষকের যৌনাঙ্গ কেটে দেওয়া হয়।

জাপান
ধর্ষণের জন্য সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা ২০ বছর বা তারও বেশি হতে পারে। গুরুতর ও সহিংস ঘটনায় আজীবন কারাদণ্ডও হতে পারে।

উত্তর কোরিয়া
ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে, যা সাধারণত ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।

আফগানিস্তান
ধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে, যা গুলি করে বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করা হয়।

মিসর
ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে, যা অনেক সময় জনসম্মুখে ফাঁসির মাধ্যমে করা হয়।

ইরান
ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এটি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র
এ দেশে ধর্ষণের শাস্তি রাজ্য ও ফেডারেল আইনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, এমনকি আজীবন কারাদণ্ডও হতে পারে।

রাশিয়া
ধর্ষণের জন্য সাধারণত ৩ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়, অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তি বাড়তে পারে।

ইসরায়েল
ধর্ষণের জন্য সাধারণত ১৬ বছর থেকে আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে।

ফ্রান্স
ধর্ষণের জন্য সাধারণত ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা অপরাধের ভয়াবহতা অনুযায়ী ৩০ বছর বা আজীবন পর্যন্ত হতে পারে।

গ্রিস
গ্রিসে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আর এই শাস্তি কার্যকর করা হয় আগুনে পুড়িয়ে।

নরওয়ে
সম্মতি ছাড়া যেকোনো যৌন আচরণ ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হয়। এ অপরাধে ৪ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কঠোর আইন নয়, বরং দ্রুত বিচার, সামাজিক সচেতনতা এবং কার্যকর আইনি প্রয়োগই পারে যৌন সহিংসতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।

এমকন্ঠ/এস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *