প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ইউএনওর সংবর্ধনা, উচ্ছ্বাসে মুখর শিক্ষার্থী ও অভিভাবক

স্টাফ রিপোর্টারঃ
মেধার স্বীকৃতি দিতে এবং শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করতে মিঠাপুকুর উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ পারভেজ শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দিলে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো অনুষ্ঠান।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রাব্বানী।

অনুষ্ঠানে ইউএনও মোঃ পারভেজ বলেন, “আজকের এই ছোট্ট স্বীকৃতি আগামী দিনের বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা। তোমরাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়বে। সততা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা এবং প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও সন্তানদের শিক্ষার প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার অনুরোধ করেন।

মিঠাপুকুরে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ইউএনওর সংবর্ধনা, উচ্ছ্বাসে মুখর শিক্ষার্থী ও অভিভাবক

সংবর্ধনা পেয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের গর্বিত ও অনুপ্রাণিত হয়। তাদের ভাষায়, এই সম্মাননা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করার আত্মবিশ্বাস ও উৎসাহ জোগাবে। অনেক অভিভাবক উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, মেধাবীদের সম্মানিত করলে অন্য শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় আগ্রহী হবে।

অনুষ্ঠিতে উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন, মেধার মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এমন উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজন করা হলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. মুহাম্মদ জহুরুল হক, সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ এনামুল হক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ গোলাম রাব্বানী।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, চলতি বছর উপজেলার ৫৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেন। এর মধ্যে ২৭৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এরমধ্যে ১১৯ জন ট্যালেন্টপুল, ১৩৫ জন সাধারণ গ্রেড এবং ২০ জন ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে বেগম রোকেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ১৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এ ছাড়া মিঠাপুকুর জীবনপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৭ জন, শঠিবাড়ি শিশু নিকেতন থেকে ১২ জন এবং সাতভেন্ডী এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে এগিয়ে রয়েছে।

অনুষ্ঠানটি শুধু বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সম্মানের নয়, বরং উপজেলার সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে—পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন একদিন অবশ্যই স্বীকৃতি এনে দেয়।

এমকন্ঠ/এস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *