মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে দাবি করে বহিস্কৃত বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টারঃ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সদ্য বহিস্কৃত বিএনপি নেতা মোঃ ফজলুল হক ফজলুকে রাজনৈতিক চক্রান্তের মাধ্যমে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানো বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম- সম্পাদক মোঃ নাজমুল হক ইমন কৌশলে ইয়াবা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলন এমন দাবি করেছেন বহিস্কৃত বিএনপি নেতা মোঃ ফজলুল হক।

​রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবে মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী ফজলুল হক।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফজলুল হক বলেন, আমি ছাত্রজীবনে তাজহাট কৃষি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং পরবর্তীতে লতিবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এছাড়া লতিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা জুলুম-নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েও দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি।

​কিন্তু গত (২০ মে) আমি ব্যবসায়িক কাজের জন্য রংপুরের মাহিগঞ্জে গেলে সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আমাকে ইয়াবাসহ আটক দেখানো হয়।

​ফজলুল হক আরও দাবি করেন, গ্রেপ্তারের পর সাহায্য করার নাটক সাজিয়ে থানা থেকে ছাড়ানোর নাম করে ইমন আমার পরিবারের কাছ থেকে ৩১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি কোনো সহায়তা না করে উল্টো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত নাজমুল হক ইমনের ভাগ্য রাতারাতি বদলে যায়। বর্তমানে তিনি বিলাসবহুল পাজেরো গাড়িতে যাতায়াত করছেন এবং অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন, যা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানান প্রশ্ন উঠেছে।

​তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নাজমুল হক ইমন। তিনি দাবি করেন, ফজলুল হক গ্রেপ্তার হওয়ার পর মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি কেবল সহায়তা করতেই এগিয়ে গিয়েছিলেন; এর বাইরে অন্য কোনো চক্রান্তের সাথে তিনি জড়িত নন।

​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ফজলুল হক ফজলু মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদানের আহ্বান জানান। পাশাপাশি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এমকন্ঠ/এস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *