রংপুরে ভাঙা ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি কাঠের ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ থাকার পর সম্প্রতি ব্রিজটির একাংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা।

ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ। নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকা কিংবা ব্রিজের অবশিষ্ট অংশ দিয়ে নদী পারাপার করছেন।

জানতে চাইলে স্থানীয় শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন স্কুলে যেতে অনেক সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। নদী পার হতে ভয় লাগে। দ্রুত ব্রিজটি ঠিক করা হলে আমাদের পড়াশোনায় আর সমস্যা থাকবে না।”

আরেক শিক্ষার্থী সাইমুন বলেন, “বর্ষায় নদীতে পানি বেশি থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। আমরা দ্রুত নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা চাই।”

এদিকে গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা সামিমুল বলেন, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও অসুস্থ মানুষ বেশি সমস্যায় পড়ছেন। দ্রুত নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”

জসিম সরকার বলেন, “এই ব্রিজটি মানুষের চলাচলের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা হলে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমবে।”

প্রাণনাথ চর ও আশপাশের এলাকাগুলো কৃষিনির্ভর, তাই ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে কৃষকদের ওপরও। ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নিতে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত একটি নিরাপদ বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি প্রাণনাথ চর এলাকায় একটি স্থায়ী ও টেকসই পাকা সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা তাদের।

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা ও স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের চলাচলে যেন ঝুঁকি না থাকে, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *