ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঢাকায় জশনে জুলুসে মানুষের ঢল

অনলাইন ডেস্ক:
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট, ঢাকা শাখার ব্যবস্থাপনায় এবং গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের সহযোগিতায় জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজিত জুলুসে নেতৃত্ব দেন দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া ছিরিকোট শরিফের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নেন।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকেই মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসা মাঠে জড়ো হতে থাকেন জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদরাসা প্রাঙ্গণ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সকাল ১১টায় সেখান থেকে জশনে জুলুস শুরু হয়। আয়োজকদের দাবি, এবারের জুলুসে প্রায় চার লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে।

জুলুসটি মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, সাত মসজিদ রোড, আসাদ গেট ও কলেজ গেট হয়ে শ্যামলী ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে জামাতের সঙ্গে জোহরের নামাজ আদায় করেন অংশগ্রহণকারীরা। জুলুসকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কলেমা ও ইসলামী বাণীসংবলিত বিভিন্ন রঙের ব্যানার ও পোস্টার। এ সময় ‘নারায়ে তাকবির’ ও ‘নারায়ে রিসালাত’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনেকে হামদ, নাতে রাসুল ও গজল পরিবেশন করেন।

জুলুসে অংশ নিতে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি বাবার সঙ্গে জুলুসে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন।

রংপুর থেকে আসা এক শিক্ষক জানান, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শাফায়াত লাভের আশায় তিনি জুলুসে অংশ নিয়েছেন। তিনি প্রতি বছরই জুলুসে অংশ নেনে।

জুলুসের মিডিয়া সেলের সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু তালেব বেলাল জানান, জুলুসে প্রায় চার লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নিয়েছে। গরমের কথা বিবেচনা করে মাঠে পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের মেহমানদারিতে প্রায় তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেছেন।

জুলুস শেষে শ্যামলী ক্লাব মাঠে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ও সভাপতির আসনে ছিলেন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসিম শাহ ও সৈয়দ আকিব আহমদ শাহ।

আলোচনায় পীর সাবির শাহ বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সমগ্র সৃষ্টির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ নিয়ামত ও রহমত। তার শুভাগমনে আনন্দ প্রকাশ করা আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করার অংশ। কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্‌যাপন করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শই শান্তি, সাম্য, মানবতা ও মুক্তির পথ। মহানবীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’

পীর সাবির শাহ আরও বলেন, ‘উগ্রবাদ, সন্ত্রাস, অবিচার ও অন্যায় থেকে মানবসমাজকে মুক্ত করার জন্য মহান আল্লাহ ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করেছেন। ইসলামের নামে যেকোনো ধরনের উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস সুফিবাদী সুন্নি মুসলমানরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।’

কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হকের পরিচালনায় মাহফিলে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন মাদরাসাটির অধ্যক্ষ মুফতি মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আল-আযহারীসহ অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম।

মাহফিল শেষে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং দেশের কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ পীর সাবির শাহ।

এ সময় আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম (মনজু), সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মহিউদ্দিন খোকনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমকন্ঠ/এস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *