রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা দিন দিন যেন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে। শান্ত মিঠাপুকুর মাদকের থাবায় হয়ে উঠছে অশান্ত। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পরিবার ও সমাজ মাদক নামক নেশার কাছে শেকলবন্দি হয়ে পড়ছে। এ কারণে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা।
সবচেয়ে বেশি মাদকাসক্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। শক্তি, সাহস আর অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত তরুণদের উপর নির্ভর করে মিঠাপুকুর এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও মাদকের থাবায় পিছিয়ে পড়ছে। হারিয়ে যাচ্ছে অনেক সাহস, শক্তি, মেধা ও মানবিক মানুষ। মাদকাসক্ত হয়ে স্কুলের নামকরা মেধাবী ছেলেটাও এখন ভবঘুরে। এর পিছনের গল্পটার নাম মাদক।
হ্যা মিঠাপুকুর মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। কোথায় নেই মাদক? উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রাম ও হাটবাজারে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হিরোইন, গাজা, এসকাফ সহ বিভিন্ন নামের মাদক। কোনকিছু সহজলভ্য হলে বিস্তার সহজ হবে সোজাসাপটা হিসাব।
কিন্তু মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা কতোটা আন্তরিক? সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে প্রশাসনের পদক্ষেপ ঠিকঠাক হচ্ছে তো? এমন প্রশ্নের উত্তর বলতে গেলে এককথায় না। পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণে ধোঁয়াশা যেন কাটছে না। ফলে মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।
তাহলে করণীয় কি?
মাদকের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠলে সামাজিক দায়বদ্ধতা যেমন রয়েছে ঠিক তেমনি প্রশাসনের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক অভিযান সময়ের দাবি। অবশ্য মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে কমপক্ষে ৩’শ থেকে ৪’শ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ নয়। তাহলে নিয়ন্ত্রণের উপায় কি? উপায় প্রতিটি ওয়ার্ডে গ্রাম পুলিশকে কাজে লাগিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ পারে মাদক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে।
মিঠাপুকুরে মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, শিক্ষক, তরুণ উদ্যোক্তা, সচেতন নাগরিক এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একমঞ্চে মুক্ত আলোচনা হয়েছে এমন কোন অনুষ্ঠানের নজির নেই। তাহলে মাদক থেকে উত্তরণের পথ সেতো অচেনাই থাকবে।
কারণ মত, দ্বিমত এবং মতামত প্রকাশের মধ্যে দিয়েই উঠে আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, উপাত্ত এবং মাদক কারবারীর পরিচয় এবং স্পট। কেন মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না? এই প্রশ্নের উত্তর উঠে আসবে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দিয়েই। সুতরাং মাদক নিয়ন্ত্রণে আধুনিক চিন্তাশীলতায় “মাদক থেকে মুক্তির পথ” শীর্ষক মুক্ত আলোচনাও মাদক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
মাদকে মৃত্যু এই নিষ্ঠুর শব্দের পরিবর্তে মাদকমুক্ত মিঠাপুকুর গড়ে উঠুক।
এমকন্ঠ/এস