স্টাফ রিপোর্টার:
ক্ষুদার জ্বালায় দোকানে মুড়ি কিনতে গিয়ে এক বৃদ্ধার বিরুদ্ধে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে!। ঘটনার দিন সকালে ওই দোকানে শিশুটি মুড়ি কিনতে গেলে তার মুখ চেপেধরে একটি পরিত্যক্ত টিনচালা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামে।
ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত আবুল হোসেন (৬৫) ইমাদপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।
জানা গেছে, বৃদ্ধের বাড়ির পাশে একটি ছোট মুদির দোকান রয়েছে। ঘটনার দিন বৃষ্টি ছিল এই সুযোগে দোকানে বসে থাকা বৃদ্ধ শিশুটির মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাস্থল মাঝিপাড়া গ্রাম থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বৈরাতীহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থাকলেও ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও সেখানে যায়নি পুলিশ। এ নিয়ে সংখ্যালঘুদের মাঝে চরম চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত বৃদ্ধ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রতিবেশী এক যুবকের স্ত্রীকে জোরপূর্কক ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ৩ বছর আগে যুবকের স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মাঝিগ্রামে প্রায় ৩’শ টি সংখ্যালঘু পরিবার রয়েছে। গ্রামটির বেশিরভাগ লোকজনই মৎস্যজীবি ও নিম্নআয়ের। নির্যাতিত শিশুর মা নেই, প্রায় ৩ বছর আগে মৃত্যু হয়। বাবা মানিক চন্দ্র দাস ভবঘুরে হওয়ায় জরাজীর্ণ একটি টিনচালা ঘরে কোনরকমে বসবাস করেন তারা।
ঘটনার দিন গত ২০ জুলাই সকাল ১১ টার দিকে ক্ষুদার জ্বালায় ছটফট করতে থাকা ছোট্ট শিশুটি একই গ্রামের আবুল হোসেনের দোকানে মুড়ি কিনতে গেলে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় দোকানদার আবুল। শিশুটির মুখ চেপে ধরে পাশের একটি ফাঁকা বাড়িতে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় চিৎকার শুনে অস্বাভাবিক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন এলাকাবাসী। ঘটনাকে ঘিরে ওই এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে ঘটনার ৫ দিন পর মিঠাপুকুর থানা পুলিশ নির্যাতিত শিশুকে উদ্ধার করে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ফুল বানু বেগম (ফুলো) বলেন, আমি শিশুটির চিৎকার শুনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি আবুল হোসেন শিশুটির সাথে খারাপ কাজ করছে। পরে আমি ডাকাডাকি করলে শিশুটিকে আবুল ছেড়ে দেওয়া মাত্র সে কান্না করতে করতে বের হয়ে আসে। ওই সময় শিশুটি অস্বাভাবিক এবং শরীরে মাটি লেগে ছিল।
প্রতিবেশী রাম চন্দ্র দাস বলেন, শিশুটির মা নেই অনাথ। বাপটাও ভবঘুরে। ওই দোকানী আবুল এমন কাজ করলো? শিশুটি মুড়ি আনতে গেল আর ওয় খারাপ কাজ করলো। এলাকার সবাই ঘটনা জানে। আমরা হিন্দু মানুষ। হামার বিচার মাই বাবা, খালি ভয় দেখায়।
নির্যাতিত শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার খিদা লাগছিল দোকানে মুড়ি কিনতে গেছলাম। ওই দাদু আবুল খারাপ কাজ করছে। চিৎকার করতে ধরছি মুখ চেপে ধরছে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এরশাদ জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামী গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে।
এমকন্ঠ/এস