স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নে এক অটোচালকের পৈতৃক জমি দখল করে পাকাঘর নির্মাণ করছেন দখলবাজরা। এ ঘটনায় মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আনিছুর রহমান (৪৫। পেশায় অটোচালক আনিছুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের মোলংহাট সংলগ্ন (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
জমি দখলের নেতৃত্বকারী রোকেয়া বেগম (৪৫) উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের মোলংহাট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ও মোকছেদ মিয়া (টুনু মেকারের) স্ত্রী।
ভুক্তভোগী ও আদালতের নথিপত্রসুত্রে জানা গেছে, উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের মোলংহাট সংলগ্ন বলদীপুকুর মৌজায় আনিছুর রহমান ও তার দুই আপন ভাইয়ের পৈতৃক বাড়িভিটা রয়েছে। সেখানে বসতবাড়ি করে প্রায় ৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন তারা। আনিছুরের বাড়ির পাশেই রয়েছে রোকেয়া বেগমের বাড়ি। ঘটনার সুত্রপাত গত বুধবার সকালে হঠাৎ দলবল নিয়ে অবৈধভাবে পাশ্ববর্তী আনিছুর রহমানের জমি দখল করে পাকাঘর নির্মাণ শুরু করেন রোকেয়া ও তার সহযোগীরা। ভুক্তভোগী আনিছুর স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে সেই জমি নিজের বলে দাবি করেন রোকেয়া। কিন্তু জমির কাগজপত্র দেখতে চাইলে রোকেয়া ও তার পরিবারের লোকজন মারমুখী হয়ে উঠেন। পরে নিরুপায় হয়ে আইনী সহযোগীতা কামনা করে মিঠাপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন অটোচালক আনিছুর। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাগজপত্র দেখে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের সীমাবদ্ধতার কথা জানান। তারপর দিশেহারা আনিছুর পৈতৃক জমি রক্ষায় বিজ্ঞ আদালতে জমির বৈধ মালিকানার স্বপক্ষে দলিলপত্র দেখিয়ে বিচার প্রার্থনা করেন। আদালত দখলদারদের হাত থেকে জমি রক্ষা এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কাজ স্থগিতাদেশ দিয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মিঠাপুকুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
মিঠাপুকুর থানা পুলিশ আদালতের আদেশের নোটিশ জারি করলেও ১ দিন পরই পাল্টে যায় চিত্র। বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে পূনরায় পাকাঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন রোকেয়া ও তার সহযোগীরা। ভুক্তভোগী বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানিয়ে আইনী সহযোগিতা চাইলেও নিষ্ক্রিয় ভুমিকা পালন করে পুলিশ।
আইনশৃংখলা রক্ষা ও পুলিশের পেশাদারিত্বের তথ্য মতে, ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিধান রয়েছে পুলিশের।
বিজ্ঞ আইনজীবির মতে ,আদালত অবমাননা করে সংঘাত সৃষ্টি করা ফৌজদারী অপরাধের আওতাভুক্ত। কিন্তু উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ পেয়েও পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ? কারণ বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেন পুলিশ। কিন্তু তবুও কেন নিরব পুলিশ? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে জমি দখলকারী ও পুলিশের গোপন আঁতাতের চিত্র সামনে এসেছে। কারণ রানীপুকুর ইউনিয়ন বিটে দায়িত্বরত এসআই হাফিজুর রহমান সোমাবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে উভয়পক্ষকে শান্তিশৃংখলা বজায় রাখার পাল্টা নোটিশ করতে এসে দখলদারদের রাত ২ টা পর্যন্ত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এই চিত্রে পুলিশ যেমন আদালত অবমাননা করেছে তেমনি দখলদারদের আইন অমান্য করতে উৎসাহ যুগিয়েছে। অবশ্য পুলিশের কথার সত্যতা মিলেছে কারণ সন্ধ্যার দিকেও দখলদারদের নির্মাণ কাজ চলমান দেখা গেছে। কিন্তু একাধিকবার ভুক্তভোগী ও তার পরিবার বিষয়টি অবগত করলেও নিরব ভুমিকা পালন করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী আনিছুর রহমান বলেন, আমাদের পৈতৃক জমি অবৈধভাবে দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ রো হচ্ছে। থানায় গেলাম পুলিশ বলছে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় আদালতের। নিরুপায় হয়ে আদালতে গেলাম কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলো। কিন্তু পুলিশ কোনকিছুই গুরত্ব দিচ্ছে না। এখন যদি আমরা আইন হাতে তুলে নেই তখন কি হবে। এএসআই জসিম ভাই আদালতের আদেশে দখলদার কাজ বন্ধ রাখতে নোটিশ করে গেলেন। আবার আরেক পুলিশ এসআই হাফিজুর রহমান এসে দখলদারদের কাজ করার সাহস দিয়ে গেলেন। দুজনে এক ইউনিয়নের দায়িত্বে থেকেও আলাদা পদক্ষেপের কারণ কি? পুলিশ দখলদারদের সাথে গোপনে আঁতাত করে নিষ্ক্রিয় ভুমিকা পালন করছে।
অভিযুক্ত রোকেয়া বেগমের সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজের জমিতে পাকাঘর নির্মাণ করার কথা জানান। জমির কাগজপত্র দেখতে চাইলে কোন দলিল বা কাগজ দেখাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন রোকেয়া।
এ বিষয়ে জানতে এসআই হাফিজুর রহমানের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সেবার মান নিয়ে পুলিশ বিভাগের সুনাম রয়েছে। তবে রানীপুকুর ইউনিয়নের এই ঘটনা পুলিশের দায়িত্বশীলতা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
এমকন্ঠ/এস