
স্টাফ রিপোর্টারঃ
রংপুরের মিঠাপুকুরে রতিয়া বিলের কয়েক লক্ষ টাকার মাছ হরিলুট করার অভিযোগ উঠেছে। বিলের পাশ্ববর্তী পীরগন্জ উপজেলার ১১ নং পাঁচগাছি ইউনিয়নের আমোদপুর গ্রামের কয়েকজন দুষ্কৃতকারী এই মাছগুলো হরিলুট করেন বলে জানা গেছে।
রতিয়া পুকুর বিল জলমহাল উপজেলার বড়হযরতপুর ইউনিয়নের বানিয়ারজান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ৫ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকায় ৩ বছরের জন্য লিজ নেন। কিন্তু বিল সংলগ্ন পীরগন্জ উপজেলার আমোদপুর গ্রামের কিছু দুষ্কৃতকারী মৎস্যজীবিদের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে ফেলেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত বছর মিঠাপুকুর উপজেলা প্রশাসন থেকে রতিয়া বিলটি লিজ নেয় বানিয়ারজান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ। ঘটনার দিন গত (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৫ টার সময় বানিয়ারজান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্যরা বিলে মাছের খাবার দেওয়ার সময় অতর্কিত হামলার শিকার হন। এ হামলায় নেতৃত্ব দেন,পীরগন্জ উপজেলার আমোদপুর গ্রামের আনারুল, শিমুল, খালেক মিয়া, বজলু মিয়া, বাদুল মিয়া, হাশেম মিয়া সহ প্রায় ১০/১৫ জন। একপর্যায়ে দুস্কৃতিকারীরা দলবল নিয়ে বিলের ছেড়ে দেওয়া প্রায় ১৬ লাখ টাকার মাছ হরিলুট করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পুলিশের উপরে চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে পুলিশ মৎস্যজীবিদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
বানিয়ারজান মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি: দুলা মিয়া বলেন, কয়েক দফায় আমাদের মারধর করে মাছগুলো হরিলুট করে নিয়ে গিয়েছে। সাধারণ সম্পাদক- ভোলানাথ বলেন, বিলটি মিঠাপুকুর অংশে, আর অভিযুক্তদের বাড়ি বিলের শেষাংশের পরের গ্রামে। আমরা বিলের ওইপারে যেতে পারছিনা।
মৎস্যজীবি খালেক মিয়া বলেন, আমরা সরকারি নিয়ম মেনে বিলটি লিজ নিয়েছি। বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে বিলে মাছ ছাড়ার পর সেই মাছ আর তুলতে পারছি না। আমাদের বিলের মাছ হরিলুট অব্যাহত রেখে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কেউ কোন কথা বলেনি। অভিযুক্ত আনারুল মিয়া বলেন, যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেটা মিথ্যা। আমরা সরকারি বিলের মাছ হরিলুট কেন করবো? তবে বিলে গিয়ে বরশি দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা যায়।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমকন্ঠ/এস
Leave a Reply