1. mithapukur24barta@gmail.com : Mithapukur : Mithapukur
  2. admin@mithapukurerkantho.com : মিঠাপুকুরের কন্ঠ :
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন

গণভোট নিয়ে প্রশ্ন, হ্যাঁ কিংবা না জিতলে যা হবে

  • প্রকাশিত : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৩ বার পাঠ করা হয়েছে
গণভোট নিয়ে প্রশ্ন, হ্যাঁ কিংবা না জিতলে যা হবে

ডেস্ক রিপোর্ট:
সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এতে গণভোট, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদনে সহজভাবে তুলে ধরা হলো এসব প্রস্তাবের অর্থ, কার্যকরী ধাপ এবং সম্ভাব্য ফলাফল।

গণভোট: কবে, কীভাবে ও কী নিয়ে?

প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। যদিও তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি, নির্বাচন কমিশন পরে তা জানাবে। ভোটদানের পদ্ধতি—ব্যালটে সিল দেওয়া নাকি আলাদা বাক্স থাকবে, তা নির্বাচন কমিশন পরে ব্যাখ্যা করবে।

গণভোটে কী প্রশ্ন থাকবে?

ব্যালট পেপারে একটি প্রশ্ন থাকবে যা চারটি মূল বিষয়ে আপনার মতামত (হ্যাঁ বা না) জানতে চাইবে। এই চারটি বিষয় হলো:

নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদ অনুযায়ী গঠন করা।

সংসদে উচ্চকক্ষ বা দ্বিতীয় কক্ষ (১০০ সদস্য) গঠন, যেখানে আসন বণ্টন হবে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে।

নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ইত্যাদি নিয়ে জুলাই সনদের ৩০টি সম্মত প্রস্তাব বাস্তবায়ন।

জুলাই সনদের সব সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি।

প্রশ্নটি হবে:
‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এবং জুলাই সনদে উল্লিখিত সংবিধান সংশোধন প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি জানাচ্ছেন?’

হ্যাঁ আর না—দুই ভোটের মানে কী?

‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বোঝাবে, ভোটার চারটি প্রস্তাবেই সম্মতি দিয়েছে।

‘না’ ভোট মানে, প্রস্তাবগুলোর সবগুলোই প্রত্যাখ্যান।

এক বা দুইটি প্রস্তাবে আংশিক সম্মতির সুযোগ নেই। ‘হ্যাঁ’ মানে সবকিছুতে সম্মতি, আর ‘না’ মানে সবকিছুতে অসম্মতি।

‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে কী হবে?

যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট পাস করে, তাহলে সংসদ নির্বাচিত জন প্রতিনিধিরা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করবেন এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার আনবেন। উদাহরণস্বরূপ—প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্দিষ্ট করার মতো বিষয় সংবিধানে যুক্ত হবে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ কী করবে?

সংবিধান সংস্কার পরিষদ মূলত জুলাই সনদে সম্মত প্রস্তাব অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করবে। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা।

উচ্চকক্ষ কেমন হবে?

প্রস্তাব অনুসারে, জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট—নিম্নকক্ষ (বর্তমান জাতীয় সংসদ) ও উচ্চকক্ষ (নতুন)।

উচ্চকক্ষে থাকবেন ১০০ সদস্য।

প্রতিটি দল জাতীয় নির্বাচনে যে হারে ভোট পাবে, সেই অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন পাবে।

কোনো দলের ভোট ১% এর নিচে হলে সেই দল উচ্চকক্ষে আসন পাবে না।

উচ্চকক্ষের বিল আটকে রাখার ক্ষমতা আছে, কিন্তু আইন পাশের ক্ষমতা সীমিত।

সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনুমোদন লাগবে।

‘না’ ভোট জয়ী হলে কী হবে?

যদি ‘না’ ভোট জয়ী হয়, তাহলে পুরো প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ—জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ আর এগোবে না। এমন উদাহরণ বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে নেই, তবে অন্যান্য দেশে এমন ঘটেছে।

বিশ্বে ‘না’ ভোটের উদাহরণ

চিলিতে সংবিধান বদলের জন্য দুটি গণভোটে ‘না’ ভোট জয়ী হয়। ২০২২ ও ২০২৩ সালে নতুন সংবিধানের খসড়া প্রস্তাব দেওয়া হলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে পুরোনো ১৯৮০ সালের সংবিধানই বহাল আছে।

প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি মতামত জানানোর সুযোগ পাবে—এটি গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক একটি ধাপ। এখন অপেক্ষা, জনগণ কোন পথে যাবে—সংবিধান সংস্কারের পক্ষে, নাকি বিরোধিতায়।

এম কন্ঠ/এস

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © mithapukurerkantho.com