1. mithapukur24barta@gmail.com : Mithapukur : Mithapukur
  2. admin@mithapukurerkantho.com : মিঠাপুকুরের কন্ঠ :
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন

মিঠাপুকুরে ধানক্ষেতে কাঁদছিল ফুটফুটে শিশু, অতঃপর মৃত্যু

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪ বার পাঠ করা হয়েছে
-রংপুরের মিঠাপুকুরে ধানক্ষেতে কাঁদছিল ফুটফুটে এক শিশু। ছবি: মিঠাপুকুরের কন্ঠ

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের মিঠাপুকুরে ধানক্ষেতে কাঁদছিল ফুটফুটে এক শিশু। খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা নবজাতক ছেলেশিশুটির কান্নার শব্দ শুনে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। হৃদয়বিদারক ঘটনাটি মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়। শিশুটিকে পরম মমতায় আগলে রাখেন স্থানীয় এক নারী। তিনি উদ্ধার হওয়া নবজাতককে সেবা দেন। কিন্তু শিশুটির অবস্থা আশংকাজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সহায়তায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জন ডাক্তার খালিদ বিন কাশিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের জারুল্লাপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কৃষি কাজে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল করিম নামের এক কৃষক। ধানের ক্ষেতের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ কান্নার ক্ষীণ শব্দ কানে আসে। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পেরে তিনি চারপাশে খোঁজ নিতে থাকেন। এক পর্যায়ে ধানের গাছ সরিয়ে দেখেন মাঝখানে একটি নবজাতক ছেলে শিশু পড়ে আছে। শিশুটি তখনও চিৎকার করে কাঁদছিল। এ দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে যান তিনি। কিছুক্ষল পরই তার ডাক শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময়ে শিশুটিকে কে বা কারা ধানক্ষেতে ফেলে রেখে গেছে।
 
শিশুটিকে প্রথমে হাতে তুলে নিয়ে নিজের গামছায় জড়িয়ে রাখেন কৃষক আব্দুল করিম। তিনি বলেন, ‘এত ছোট একটা বাচ্চাকে এভাবে ফেলে রাখা-ভাবতেই চোখে পানি আসে। আমি দ্রুত গ্রামবাসীকে খবর দিই। পরে সবাই মিলে শিশুটিকে যত্ন নিতে থাকি। কিন্তু শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক মনে হলে গ্রামের এক নারী ও কয়েকজন যুবকের সহায়তায় শিশুটির চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই’।

এলাকাবাসী জানায়, শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়। শিশুটির শরীরে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাীন অবস্থায় তার রক্তের শূন্যতা সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫ টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

একজন স্থানীয় নারী বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা শিশুটিকে দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। কে এমন নির্মম মানুষ হতে পারে! শিশুটিকে আমরা বাঁচাতে পারলাম না।

এদিকে ঘটনাটি সংবাদমাধ্যম সহ সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে নবজাতকটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু দিনভর জীবনযুদ্ধে লড়াই করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যুর খবরে সোস্যাল মিডিয়া সহ জনমনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © mithapukurerkantho.com