
অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে নারী কর্মীদের ওপর হামলা এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা উইং। যদিও কোনো ধরনের বাধা বা ভয়ভীতি নারী ভোটারদের দমাতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেত্রীরা।
আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর মহিলা উইংয়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও মহিলা বিভাগের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি জেনারেল নেসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রহমান এবং রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হাবিবা চৌধুরী।
বৈঠক শেষে ডা. হাবিবা চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী। তারা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫–১৬ বছর ধরে দেশের মা-বোনেরা ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবার সেই সুযোগ নষ্ট করতেই একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের ১৫টি স্থানে নারীদের ওপর হামলার সচিত্র নথিপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। নারীরা অবলা নয়, আমরা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নেসা সিদ্দিকা বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী সংগঠন এবং তারা কোরআনের বিধান অনুসরণ করে চলে। আল্লাহ তায়ালা পুরুষকে নারীর পরিচালক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শীর্ষ পদে নারী থাকা বিষয়টি তাদের কাছে মুখ্য নয়। তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীদের অধিকার আদায় হচ্ছে কি না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত ৫৪ বছরে দেশে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী থাকলেও নারীদের নিরাপত্তা আদৌ বেড়েছে কি না। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন নেতৃত্ব চায় যারা মানবিক হবে।
নেসা সিদ্দিকা আরও জানান, জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরার উপদেষ্টা কমিটিতে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রয়েছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনেও নারীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত নেত্রীরা অভিযোগ করেন, মাঠ পর্যায়ে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। শরিফ ওসমান হাদি ও রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে তারা বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাত দেখানো হলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে আনা বিভিন্ন অভিযোগকে ‘আজগুবি’ এবং ‘ভীতু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তাদের দাবি, জামায়াতের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন দেখে একটি পক্ষ অস্থির হয়ে ভিত্তিহীন কথা বলছে।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর নির্বাচন কমিশনাররা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান ডা. হাবিবা চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের আশ্বস্ত করেছে যে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হবে এবং সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবে।
এমকন্ঠ/এস
Leave a Reply