
স্টাফ রিপোর্টার:
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে অসহায়দের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে কিন্তু বিশেষ এই উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দুই প্রতারক। তারা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ হবে এমন প্রতিশ্রুতিতে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। দুই প্রতারক ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ফরম তৈরি করে টাকা নেন। অবশেষে গত শুক্রবার টাকা নেওয়ার সময় ওই দুই প্রতারককে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা।
উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ডাবরা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। আটক দুই প্রতারক হলেন, মনোরঞ্জন শীল এবং শরিফুল ইসলাম। তারা মিঠাপুকুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ডাবরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই দূর্গাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল ওই দুই প্রতারক। গত শুক্রবার ডাবরা গ্রামে ঘুরে ঘুরে তারা নিজেদের বিএনপির কর্মী বলে পরিচয় দেন এবং ফ্যামিলি কার্ডের কথা জানান। তারা গ্রামের দরিদ্র পরিবারকে টার্গেট করে স্বল্পমূল্যে পণ্য পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দেন। কার্ডপ্রতি ফরম এবং খরচ বাবদ ১ হাজার টাকা করে দাবি করেন। কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টাকা নেওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। গ্রামবাসীরা তাদের পরিচয় এবং কার্ড দেওয়ার বৈধতা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ঘেরাও করে পুলিশকে খবর দেন জনসাধারণ।
ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বলেন, ফরম বাবদ ৫০০ টাকা দিলেই ফ্যামিলি কার্ড হবে এজন্য বিশ্বাস করে টাকাটা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওদের কথায় সন্দেহ হলে আমি পাড়ার লোকজনকে ডাকি। পরে বুঝতে পারি ওরা প্রতারক।
ভুক্তভোগী আজমল হোসেন বলেন, ওরা নিজেদের সরকার এবং বিএনপির প্রতিনিধি বলে পরিচয় দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে। আমার কাছ এক হাজার টাকাও চেয়েছে। কার্ডের ফরমও দেখায় কিন্তু ফরমে কোনো সরকারি সিল বা স্বাক্ষর ছিলোনা। পরে আসল রহস্য বেরিয়ে আসে। তারা ভুয়া, প্রতারক।
বিক্ষুব্ধ জনতা দুই প্রতারককে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। পরে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে দুই প্রতারককে উদ্ধার কারার পর ছেড়ে দেন।
এদিকে, প্রকাশ্যে অপরাধ করেও দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে নানান প্রশ্নের দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছে এভাবে অপরাধীদের ছেড়ে দিলে অপরাধ আরও বাড়ব।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। পরে এলাকাবাসীর অনুরোধে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এমকন্ঠ/এস