স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন পয়েন্টে থামছেনা ভাঙ্গন। বর্ষা শেষ হলেও এখনো নদীভাঙন চলছে। বেশকিছু ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তার পরেও ভাঙ্গছে নদী কাদছে মানুষ, থামছেনা ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন। ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে উলিপুর উপজেলার চরাঞ্চল জাহাজের আলগা এলাকায় প্রায় অর্ধশত বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক, বাড়িঘর, আবাদি জমি ও গাছপালা।
পাউবোর তথ্যমতে, কুড়িগ্রাম জেলার মধ্যে বড় চারটি নদীর দুই তীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার। এর মধ্যে মাত্র ৭০ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ রয়েছে। এসব এলাকায় এখন ভাঙন নেই। অন্যদিকে অরক্ষিত নদীতীর ও চরাঞ্চলে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এদিকে তিস্তার পানি কিছুটা বাড়ার পর বাঁধের মূল রাস্তার একটি অংশে ফাটল ধরে ভাঙন শুরু হয়। পরে নদীর তীব্র স্রোতে বাঁধের তলদেশের মাটি ও বালু সরে যায়। পাউবো সেখানে জিও ব্যাগ ফেলছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধটি ভেঙে গেলে বড়দরগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালিরমেলা ও ডাংরারহাট গ্রাম ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে।
অন্যদিকে উলিপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের কঁচাবাঁচা জাহাজের আলগা এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে গত এক মাসে প্রায় অর্ধশত বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং প্রায় ৪০ একর ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে জাহাজের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ঝুঁকিতে রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকসহ আরও বেশকিছু স্থাপনা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর ভগবতিপুরেও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন চলছে। এক সপ্তাহে পাঁচটি বাড়িসহ কয়েক বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এর আগে চরের একমাত্র নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনরোধ হওয়ায় শঙ্কামুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি জেলার বেশ কিছু এলাকায় স্থায়ী প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। আরও কয়েকটি প্রকল্পের জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে ভাঙন অনেকাংশে কমে যাবে। তবে বেশ কিছু চর ও দ্বীপচর এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় কাজের বরাদ্দ পাওয়া যায় না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি।
এমকন্ঠ/এস