
বেরোবি প্রতিবেদক:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস করেছেন।
আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে রায় ঘোষণার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ গেট থেকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলটি শুরু করেন। বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে শেষ হয় এবং সেখানেই মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উদযাপন করা হয়।
এসময় বেরোবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, “চব্বিশের জুলাই আগস্টে আওয়ামী মন্ত্রী পরিষদ ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে আন্দোলনকারীদের হত্যায় ইন্ধন দানকারী শেখ হাসিনার যে রায় হয়েছে তাতে আমরা বেরোবির শিক্ষার্থীরা উচ্ছাসিত। আমরা চাই অনতি বিলম্বে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনেই যায় কার্যকর করা হোক। তবেই জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মা প্রশান্তি পাবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “আজকে খুনি হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের এই রায় আমাদের ছাত্রজনতার জয়। আমরা মাঠে আছি, বিপ্লব ঘটিয়েছি ফলে আজকের এই জয় পেয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে খুনি হাসিনা এবং অন্যান্য দেরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে এই ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। তবেই আমাদের ছাত্রজনতার সংগ্রাম সফল হবে।”
এদিকে এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী ও বেরোবি ছাত্র শিবির নেতা আলবির বলেন, “শেখ হাসিনা তার নিজ হাতে গড়া এই ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে বিগত সময় যে বিচারিক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে আজকে সেই আদালতেই তার ফাঁসির রায় হয়েছে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট এবং আমরা আরো বেশি উচ্ছাসিত হবো যেন দ্রুত তাকে ভারত থেকে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হয়।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর হামলা ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘ ৩৯৭ দিনের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গণঅভ্যুত্থানের পর দেশত্যাগী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।
এই আন্দোলনের প্রথম শহীদ ছিলেন বেরোবির ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ১৬ জুলাই ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হলে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন দেশজুড়ে ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে একই বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয় তৎকালীন সরকার।
Leave a Reply