
স্টাফ রিপোর্টরে:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নে টিআর (টেস্ট রিলিফ) বরাদ্দের রাস্তা সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় ৯০ মিটার রাস্তা হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) করণের কথা থাকলেও, সেখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর নিম্নমানের ইট ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য রমজান আলী মন্ডলের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লতিবপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটির তদারকি ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন ইউপি সদস্য রমজান আলী মন্ডল। কিন্তু কাজ শুরু থেকেই তিনি সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইটগুলো নিম্নমানের (২য় ও ৩য় শ্রেণীর)। অনেক জায়গায় বালির পরিবর্তে মাটির মিশ্রণ স্পষ্ট। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শেষ হতে না হতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ থেকে ইট উঠে যাচ্ছে। রাস্তাটির নির্মাণশৈলী নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কোথাও রাস্তা অতিরিক্ত উঁচু, আবার কোথাও নিচু হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক লেভেলিং না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাকিবুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সরকারি টাকা দিয়ে আমাদের সুবিধার জন্য রাস্তা করা হচ্ছে, অথচ মেম্বার নিজের পকেট ভারী করতে একদম বাজে ইট দিয়ে কাজ করছেন।
শাহীন নামে আরেকজন জানান, রমজান মন্ডল মেম্বার ২য় ৩য় শ্রেণীর ইট দিয়ে রাস্তার কাজ করছেন। হাত দিয়ে টান দিলেই ইট উঠে আসছে। আমরা বাধা দিলেও তিনি কারও কথা শুনছেন না।
অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য রমজান আলী মন্ডল অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নিম্নমানের ইটের ব্যবহারের দৃশ্যমান প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তিনি দাবি করেন, বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি কাজে অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। যদি প্রকল্পের সিডিউল বহির্ভূত বা নিম্নমানের কাজ হয়ে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমকন্ঠ/মিল্লাত
Leave a Reply