
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের পীরগঞ্জে দেশের প্রথম ধাতব খনিকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহাড়পুর গ্রামের ভেলামারী পাথারে প্রায় ছয় দশক পর পুনরায় কূপ খননের মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিন মাসব্যাপী এই প্রকল্পে এক হাজার ২০০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হবে। অনুসন্ধানে লোহা, তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এমনকি সোনার উপস্থিতিও মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ উদার ও পরিশ্রমী। সৃষ্টিকর্তা এই অঞ্চলের মাটির নিচে খনিজ সম্পদ দিয়েছেন। এসব সম্পদ উত্তোলনে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) উপ-মহাপরিচালক প্রকৌশলী আকবর আলী বলেন, এখানকার বেজমেন্ট শিলা শক্তিশালী হওয়ায় ধাতব খনিজ যেমন লোহা, তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এমনকি স্বর্ণও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না।
জিএসবির পরিচালক (ভূতত্ত্ব) আরিফ মাহমুদ বলেন, তিন মাস ধরে খনন কাজ চলবে। খনিজ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পরই জানা যাবে এখানে ঠিক কী কী খনিজ সম্পদ রয়েছে। শুধু এটিকে লৌহখনি বলা এখনই সঠিক নয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর তৎকালীন পাকিস্তান খনিজ সম্পদ বিভাগের বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট তথ্যের ভিত্তিতে ভেলামারী পাথার এলাকায় অনুসন্ধান চালান। বিমান থেকে শক্তিশালী চুম্বকদণ্ড ব্যবহার করে তারা মাটির নিচে ধাতব স্তরের অস্তিত্ব শনাক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে একাধিক ধাপে জরিপ ও খনন করে এখানকার ভূগর্ভে লোহাসহ বিভিন্ন ধাতব উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
১৯৬৭ সালের দিকে পাকিস্তান সরকার এখানে বড় পরিসরে অনুসন্ধান চালালেও নানা কারণে উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার পুনরায় কিছু কূপ খনন করে জরিপ পরিচালনা করে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে নতুন কূপ খনন করা হয়, যেখানে কিছু খনিজ উপাদানের সন্ধান পাওয়া যায়।
সর্বশেষ শুরু হওয়া এই খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে পীরগঞ্জের ভেলামারী পাথারে দেশের ধাতব খনিজ সম্পদ আহরণের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমকন্ঠ/এস
Leave a Reply