
স্টাফ রিপোর্টার:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। হাঁড়িভাঙাখ্যাত মিঠাপুকুরে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি , ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ নির্বাচনে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্যে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ব্যক্তি জনপ্রিয়তা, দলীয় প্রভাব এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক ও আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এ পরিস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে রয়েছে কঠিন সমীকরণ।
এই আসনে এবার ভোটাররা অতীতের তুলনায় অনেকটা সচেতন। কৃষক, দিনমজুর, রিক্সা-ভ্যানচালক, অটোচালক, শিক্ষিত সচেতন নাগরিক ও তরুণ ভোটারদের বড় একটা অংশ নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন না। নিজেদের মতামত প্রকাশ না করার কারণে তারা কাকে ভোট দিবেন? এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ব্যালট বাক্সে। এর ফলে কার জনপ্রিয়তা বেশি এবং কোন প্রার্থী ভোটের মাঠে এগিয়ে আছে ধারণা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভোটারদের মতামত বলছে, ভোটের দিন ভোটগ্রহন শেষে ব্যালট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনপ্রিয়তার প্রশ্নের উত্তরে রয়েছে কঠিন সমীকরণ।
তবে এই আসনে ত্রি-মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে, এমনটাই মনে করছেন অনেকেই। কারণ একসময়ে এই আসনটি জাতীয় পার্টির দূর্গ ছিল। এবারের নির্বাচনে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শিল্পপতি এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর। মুখিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের দিকে। এতে করে বিএনপি-জামায়াত-জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ে গড়াতে পারে ব্যালটযুদ্ধ। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি’র আব্দুল বাছেত মারজান।
ভোটের মাঠে কাকডাকা ভোর থেকে রাত অবধি প্রতিশ্রুতির ফুলঝুঁরি নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন শহরে-বন্দরে, গ্রামেগঞ্জে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে সভা-সেমিনার, উঠান বৈঠক, জনসভায় নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন, দেখাচ্ছেন তারা। ন্যায্যতা, অধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ দুর্নীতিমুক্ত কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের কথাও বলছেন। অন্যদিকে, ভোটারদের দাবি অবহেলিত মিঠাপুকুরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নসহ মৌলিক অধিকার পূরণ যেন হয়।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম রব্বানী (দাঁড়িপাল্লা) ও বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী (ধানের শীষ)। দুই দলের প্রার্থীর নাম একই হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে রয়েছে আলোচনা।
আওয়ামী শাসনামলে কোনঠাসা হয়ে থাকা বিএনপি এখন সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় এ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার আভাস মিলেছে তাদের নেতাকর্মীর কাছ থেকে। বিএনপি থেকে ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। এবার সেই হারানো আসন পুনরুদ্ধারে চমক দেখাতে চান অধ্যাপক গোলাম রব্বানী।
অপরদিকে আওয়ামী শাসনামলে কোনঠাসা হয়ে থাকা জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন কর্মসুচীর মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তির জানান দিয়েছে। এ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার আভাস মিলছে।জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে সংসদ সদস্যসের আসনে বসাতে চায় নেতাকর্মীরা।
এ আসনের বাকি প্রার্থীরা হলেন- আমার বাংলাদেশ পার্টি’র আব্দুল বাছেত (ঈগল), ইসলামী আন্দোলনের গোলজার হোসেন (হাতপাখা), নাগরিক ঐক্যের মোফাখখারুল ইসলাম নবাব (কেটলি), বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি-সিপিবি’র আবু হেলাল (কাস্তে), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মাকর্সবাদী’র বাবুল আক্তার (কাঁচি) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহবুবুর রহমান (ডাব)।
মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-৫ আসনে ৪ হাজার ৪৪৫ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধিত তালিকায় রয়েছেন। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন। ১৫২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে ৯১৪টি বুথে।
এমকন্ঠ/সুজন
Leave a Reply