
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় সৎ বাবার লালাসার শিকার হয়েছেন এক কিশোরী মেয়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় তোলপাড় চলছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের ঈদুলপুর আবাসন এলাকায়। অভিযুক্ত সৎ বাবা আব্দুল মোতালেবকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের হাতে গ্রেফতার মোতালেব বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা হলেও কাজের সুবাদে মিঠাপুকুরে বসবাস করতেন। এবং ভুক্তভোগী কিশোরী মেয়ের-মায়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুল মোতালেব ও ভুক্তভোগীর মা আদুরী বেগম (৩৫) উভয়েই স্থানীয় একটি হোটেলে কাজ করতেন। সেখানে পরিচয়সুত্রে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসাথে বসবাস করে আসছিলেন। আদুরী বেগমের আগেও বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে আর ১৬ বছর বয়সী ছোট মেয়েটি (ভুক্তভোগী) এই দম্পতির সাথেই ঈদুলপুর আবাসনের ঘরে থাকতেন।
প্রায় ১৫ দিন আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সৎ বাবা মোতালেব মিয়ার লালসার শিকার হয় ওই কিশোরী। তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন মোতালেব। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও কয়েকবার অবুঝ কিশোরীর উপর পাশবিক নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী মেয়েটি তার মায়ের কাছে ঘটনাটি খুলে বললে বিষয়টি জানাজানি হয়।
পরে ভুক্তভোগীর মা আদুরী বেগম বাদী হয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) মিঠাপুকুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মিঠাপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মোতালেবকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা আদুরী বেগম বলেন, আমার নাবালিকা মেয়ের ওপর যে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, আমি তার কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। গরীব বলে তো বিচার হয়না কিন্তু আমি ন্যায্য বিচার চাই, ফাঁসি চাই।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মেয়েটির মা থানায় মামলা করেছে। আসামিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ায় জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এমকন্ঠ/এস