মিঠাপুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ শিশু, দুই পুকুরে খুঁজে মিলল মরদেহ!

স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুরে বাবার সাথে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে আলিফ হাসান নামে সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দুটি পুকুরে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন ডুবিরিরা। নিহত আলিফ উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের খোশালপুর গ্রামের মোজাহিদুল ইসলামের একমাত্র ছেলে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি মৎস্য খামারের পুকুর থেকে আলিফের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিরা।

এর আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় লোকজন ও নিহত আলিফের খেলার সাথী দুজন শিশুর তথ্যের ভিত্তিতে একটি পুকুরে প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে শ্বাসরুদ্ধকর সন্ধান চালায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিরা। যে পুকুরে ডুবুরিরা আলিফকে খুজতে শুরু করে সেই পুকুরে একসাথে গোসল করার তথ্য দেয় আলিফের খেলার সাথী। কিন্তু সেখানে প্রায় ৭ ঘন্টা অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ আলিফের কোন সন্ধান মেলেনি। পরে সেই পুকুরের পাশের একটি পুকুর যেখানে সকালে বাবার সাথে মাছ ধরতে গিয়েছিল আলিফ। সেখানে আলিফকে খুজতে শুরু করে ডুবুরিরা। পরে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সেখান থেকে আলিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

_পানিতে ডুবে নিহত আলিফের মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বাবার সাথে বাড়ির পাশের আসাদ নামে এক কৃষি খামারির পুকুরে মাছ ধরতে যায় আলিফ। একপর্যায়ে বাবা বাড়িতে ফিরে আসলেও আলিফ ফিরে আসেনি। দীর্ঘক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা পুকুরে তল্লাশি করে কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে মিঠাপুকুর ফায়ার সার্ভিস ও রংপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানে দুজন ডুবুরি অংশ নেন। দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুকুর থেকে আলিফের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

মিঠাপুকুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ মশিউর রহমান জানান, আমরা দুপুর ১টার দিকে খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থল গিয়ে রংপুরের টিম সহ দুপুর ২টা থেকে নিখোঁজ শিশুটিকে খোঁজা শুরু হয়। কিছু মিস ইনফরমেশনের কারণে শিশুটিকে খুঁজে পেতে সময় লেগেছে। প্রথমে যে পুকুরে ডুবুরিরা অভিযান শুরু করে সেখানে শিশুটির কোন অস্তিত্ব নাপেয়ে আমরা পাশের আরেকটি পুকুরে অভিযান শুরু করি। পরের পুকুর থেকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আলিফের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এমকন্ঠ/সুজন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *